“গণ আত্মহত্যার হুমকি” দিলেন শালবনী করোনা হাসপাতালের ‘কোভিড যোদ্ধা’রা, একই দাবিতে সরব আশা সুপারভাইজাররাও

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ নভেম্বর :“হয় স্বীকৃতি দিন, নাহলে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিন”, শালবনী করোনা হাসপাতালের ‘করোনা যোদ্ধা’রা আজ (বুধবার) এই মর্মে পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমলের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিলেন। স্মারকলিপির উপরেই শিরোনাম, “চুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মীদের গণ আত্মহত্যার অনুমতি প্রার্থনা নিমিত্ত আবেদন পত্র।” ওই করোনা যোদ্ধাদের অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে তাঁরা স্বাস্থ্য পরিষেবায় নিয়োজিত আছেন। মানবিকভাবে ও নিষ্ঠাভরে তাঁরা আগেও পরিষেবা দিয়ে এসেছেন, বর্তমানে কোভিড যুদ্ধেও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন, অথচ আগে তাঁদের বেতন আগে ছিল ৮৫০০ টাকা, তা কমে হয়েছে ৭৫০০ টাকা। নেই পিএফ ও ইএসআই। বোনাস দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০০০ টাকা। সর্বোপরি, নেই কোন সরকারি স্বীকৃতি। তাই, অবিলম্বে তাদের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হোক, না হলে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক।

thebengalpost.in
স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে ডেপুটেশন :

.
.
thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতালের করোনা যোদ্ধারা :

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যে প্রায় ৬০০০ অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী অ্যাজেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়োজিত আছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরে সেই সংখ্যাটা ৪৭৬। শালবনী করোনা হাসপাতালে নিযুক্ত আছেন ১৩৬ জন। ইতিমধ্যে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই চুক্তিবদ্ধ অস্থায়ী স্বাস্থ্য কর্মীরা, বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া প্রভৃতি জেলাতেই আন্দোলন হয়েছে। সম্প্রতি একই দাবিতে সরব হয়েছিলেন, ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীরা। এবার, লেভেল ফোর শালবনী করোনা হাসপাতালের ‘করোনা যোদ্ধা’ রাও সেই একই দাবিতে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন। এর আগে, পুজোর ঠিক কয়েকদিন পূর্বে জেলা প্রশাসনের তরফে তাদের ১০০০ টাকা বোনাস দেওয়াতে, তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলন করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, বেতন কম, আর এবার বোনাসও মাত্র ১০০০! আর আজ এই অস্থায়ী কর্মীরা বললেন, “এই সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আমরা নিয়োজিত। এর আগেও আমরা স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। করেছি স্থায়ী কর্মীদের মতোই সমস্ত কাজ। অথচ, আমাদের চাকরির কোন নিশ্চয়তা নেই। আমাদের কোনো অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বেতন কমে গেছে প্রায় ১০০০ টাকা। এই পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে জীবন নির্বাহ করব? তাই মাননীয়া, জনদরদী মু্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে সাথে মাননীয়া জেলাশাসকের কাছেও আমাদের একান্ত আবেদন, আমাদের গণ আত্মহত্যা বা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হোক!” এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

thebengalpost.in
আশা সুপারভাইজারদের স্মারকলিপি বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবিতে :

.

এদিকে, প্রায় একই দাবিতে আজ সরব হয়েছেন এবং জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন, আশা সুপারভাইজার'(আশা ফেসিলিটেটর) রাও। তাঁদের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে তাঁদের বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস হয়নি। এখনো তাঁদের বেতন মাত্র ৭৫০০ টাকা। অথচ, তাঁদের ‘জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ’ পর্যন্ত করতে হয়! তাই অবিলম্বে তাদের বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস করা হোক।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে