রাবণ দহনের ৪ দিনের মাথায় সংক্রমিত খড়্গপুরের SDPO! পুজোর পরই মেদিনীপুর-খড়্গপুর-ঘাটালে করোনার দাপট, জেলায় ৩২২ জন আক্রান্ত গত ৩ দিনে

thebengalpost.in
করোনা আক্রান্ত এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাসের রিপোর্ট আরটি-পিসিআরেও পজিটিভ এল :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩১ অক্টোবর: খড়্গপুর শহরের বহুল চর্চিত (সমালোচিত বা বিতর্কিত) রাবন বধ বা রাবন‌ দহন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে, মাত্র ৫ দিন আগেই, ২৬ অক্টোবর বিজয়া দশমী’র দিন! বিধি ভেঙে লক্ষ লোকের সমাবেশ উস্কে দিয়েছিল, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা। স্বয়ং জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল থেকে শুরু করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি অজিত মাইতি কিংবা দশেরা উৎসব কমিটির সভাপতি তথা বিধায়ক প্রদীপ সরকার নানা সাফাই দিলেও, সংক্রমণের দায় কে নেবে, প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি কেউই! অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণের সমস্ত চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে এতো ভিড় হবে ভাবা যায়নি। ভিড়ের মধ্য থেকে কতজন সংক্রমিত হয়েছেন বা হবেন, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়; তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা আন্যতম শীর্ষস্থানীয় করোনা যোদ্ধা তথা খড়্গপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) সুকোমল কান্তি দাসের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, রাবণ দহন বা রাবণ বধের ঠিক চারদিনের মাথায়, ৩০ শে অক্টোবর। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর), খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা যায় স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। তিনি স্বল্প উপসর্গযুক্ত। তবে, রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরই নূন্যতম ঝুঁকি না নিয়ে, কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে পুনরায় তাঁর আরটি-পিসিআর টেস্ট হবে। এদিকে, শুধু এসডিপিও (SDPO) নন, পুজোর ৩-৪ দিন পর থেকেই করোনা সংক্রমণের হার ফের বৃদ্ধি পেয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। গত ৩ দিনে, নমুনা অনুপাতে সংক্রমণের হার ১১-১২ শতাংশ! যা, দিনকয়েক আগে ৯ শতাংশে নেমে এসেছিল বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৩ দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩২২ জন (২৮ অক্টোবর- ৯৭, ২৯ অক্টোবর- ১১৪ এবং ৩০ অক্টোবর- ১১১)। এর মধ্যে, খড়্গপুর শহর ও শহরতলীতে সংক্রমিত হয়েছেন ৭০ জন (গত ৩ দিনে যথাক্রমে ৩২, ২৯ ও ৯)। মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীতে সংক্রমিত হয়েছেন ৪২ জন (গত ৩ দিনে যথাক্রমে ৫, ২১ ও ১৬)। এরপর, ঘাটাল মহকুমায় গত ৩ দিনে বা গত ৭২ ঘন্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ৪৫ জন কিংবা সামান্য বেশি (তিনদিনের সঠিক র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন তথ্য ধরলে ৪৫ এর থেকে বাড়তে পারে সংখ্যাটা)। এছাড়াও, বেরদা, কেশিয়াড়ি, দাঁতন, চন্দ্রকোনা রোড এবং গড়বেতায় একাধিক ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। শালবনী, সবং, ডেবরা, পিংলা, গোয়ালতোড়, কেশপুর প্রভৃতি এলাকায় ২-১ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। গত ৩ দিনে জেলায় মৃত্যু হয়েছে মাত্র ৩ জনের। ফলে, মোট মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৯।

thebengalpost.in
করোনা আক্রান্ত এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাস :

.
.

এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ জন (৩০ অক্টোবর রাতের করোনা রিপোর্ট অনুযায়ী) সংক্রমিত হওয়ায় পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮৮৯। তবে, প্রায় ৯২ শতাংশ হারে ১২৭৫৬ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চিকিৎসাধীন আছেন মাত্র ৯৩৪ জন। এর মধ্যে, ৭৫৩ জন আছেন গৃহ নিভৃতবাসে এবং ১৮১ জন আছেন করোনা হাসপাতাল ও সেফ হোমে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯৯ জনের।

thebengalpost.in
করোনা আক্রান্ত এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাস :

.

এদিকে, গত ২৮ অক্টোবর মেদিনীপুর শহরে করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন মাত্র ৫ জন। বটতলাচক, হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের গলি, এলআইসি প্রভৃতি এলাকা থেকে ১ জন করে সংক্রমিত হয়েছিলেন। অপরদিকে, ২৯ অক্টোবর মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীতে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২১ জন। শরৎপল্লী, বিধাননগর, তাঁতিগেড়িয়া, রাঙামাটি, অশোকনগর সহ যে সমস্ত এলাকাগুলিতে পুজোর আগে থেকেই সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত ছিল, সেখানে ফের পারিবারিক ও গোষ্ঠী সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। শরৎপল্লী,’তে ৩৩ বছরের এক যুবক ছাড়াও একটি পরিবারের মা (৩৮) ও তাঁর কিশোর সন্তান (১২) সংক্রমিত হয়েছেন। বার্জটাউনে সংক্রমিত হয়েছেন বাবা (৪৪) ও শিশুপুত্র (২)। বিধাননগরেও একটি পরিবারের বাবা (৪৬) ও ছেলে (১৭) ছাড়া সংক্রমিত হয়েছেন এক যুবক (৩৮)। সিপাইবাজারে সংক্রমিত এক দম্পতি (৫০ ও ৪৫)। এছাড়াও, কেরানীচটি (৩৭ বছরের যুবক), অশোকনগর (২৯ বছরের যুবক), করাতীপাড়া (৩৪ বছরের যুবক), বাড় মানিকপুর-সুদামপুকুরপাড় (৪১ বছরের মহিলা) এলাকায় ১ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকও (৫৫) করোনা সংক্রমিত হয়েছেন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। এছাড়াও, শহরতলীর মালবাঁধি এলাকায় ২ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। অন্যদিকে, গতকাল রাতে (৩০ অক্টোবর), যে ১৩ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে তাঁরা যথাক্রমে- রাঙামাটি (২৪ বছরের যুবক), তাঁতিগেড়িয়া (৩৮ বছরের যুবক), শেখপুরা (২৫ বছরের যুবক) এবং অশোকনগর (দম্পতি- ৬০ ও ৫৮), শরৎপল্লী (দম্পতি- ৫৩ ও ৪৬)’র বাসিন্দা। এছাড়াও, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে ৫ জন এবং কোতোয়ালী থানার বিভিন্ন এলাকায় আরো ৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে গতকাল।

thebengalpost.in
খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল :

রেলশহর খড়্গপুরে, গত ৭২ ঘণ্টায় রেল সূত্রে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন। এছাড়াও, ইন্দা, খরিদা, মালঞ্চ, সোনামুখী, কৌশল্যা, বুলবুলচটি এবং গ্রামীণ দু-একটি এলাকা মিলিয়ে আরো ২০ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
এদিকে, শালবনী ব্লকের কর্ণগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ডাঙরপাড়ায় এই প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর), এক যুবকের (২৭) করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ওইদিনই গোয়ালতোড়ের ঝালঝালি এলাকায় একটি পরিবারের ৬ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। ডেবরা’র আষাড়ী ও পাশং এলাকায় ২ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২৯ অক্টোবর। গতকাল, ৩০ অক্টোবর সবংয়ের কশবা (সবং ৮ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত) গ্রামে ২ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা গেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। অন্যদিকে, বেলদা, দাঁতন, কেশিয়াড়ি, ঘাটাল, দাসপুর, ক্ষীরপাই, চন্দ্রকোনা প্রভৃতি এলাকাতেও গত ৭২ ঘন্টায় একাধিক ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত হয়েছেন।

thebengalpost.in
উৎসব পরবর্তী মেদিনীপুর ও খড়্গপুরে বিপুল সংখ্যক করোনা আক্রান্ত হলেন :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে