দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ২৪ মার্চ: ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে দেশের করোনা পরিস্থিতি। গত ৬ মাসের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে, ফের ৫০,০০০ এর গন্ডী অতিক্রম করল দৈনিক সংক্রমণ! গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন- ৫৩,৪৭৬ জন। বুধবার এই সংখ্যাটা ছিল, ৪৭,২৬২। ফলে, সংক্রমণ বৃদ্ধির এই অভিঘাত রীতিমতো দুঃশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের। গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৫১ জনের (বুধবার মৃত্যু হয়েছিল ২৭৫ জনের)। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গতকাল (২৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে রাজ্যগুলিকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হোলি বা দোল সহ আসন্ন উৎসবের মরসুমে জনসমাগম রুখতে রাজ্যগুলি আইন বা নির্দেশিকা জারি করতে পারে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন জারি করে, হোলি বা দোল উৎসব, সবেবরাত, বিহু, ইস্টার, ঈদ-উল-ফেতর প্রভৃতি উৎসব গুলিতে আড়ম্বর বা জনসমাবেশ বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে। কিন্তু, আশ্চর্যজনকভাবে নির্বাচনের এই আবহে (৫ টি রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে) মিটিং-মিছিল কিংবা বড় সমাবেশ বন্ধ করার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি! ফলে, রাজনীতি-প্রিয় দেশবাসীকে আগামী দিনগুলিতে যে ‘রাজনীতি’র সাথে সাথে ‘করোনা ভাইরাস’ কেও আপন করে নিতে হবে তা বলাই বাহুল্য।

Whatsapp Group এ

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২৩ শে মার্চ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিপর্যয় মোকাবিলা আইন (২০০৫) মেনে আগামী ৩০ শে এপ্রিল পর্যন্ত কোভিড-বিধি বলবৎ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে, প্রতিটি রাজ্য এবং নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মাস্ক-স্যানিটাইজার ব্যবহারের সাথে সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী, মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি, ট্রেস-টেস্ট এবং ট্রিটমেন্টের উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সংক্রমিতের সরাসরি সংস্পর্শে থাকাদের খুঁজে বের করা, টেস্ট করানোর ব্যবস্থা করা এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে করোনা’কে প্রতিহত করার কথা বলা হয়েছে। তামিলনাড়ু, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ‘হিংসা’র সাথে সাথে ‘সংক্রমণ’ রোখাটাও নতুন চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের কাছে। নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা জানিয়েছেন, “৩১ শতাংশ বুথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একতলাতেই নেওয়া হবে ভোট। মাস্কের ব্যবহার, দূরত্ব বজায় রাখা এবং তাপমাত্রা পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।” তবে, বুথের বাইরে ও ভেতরে সংক্রমণ রুখে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মিটিং-মিছিল ও সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম রুখতে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি এখনও পর্যন্ত। এমনকি, মাস্ক না পরেই পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হচ্ছে অবাধে!



গত চব্বিশ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রের ভয়াবহ সংক্রমণ (প্রায় ৩২০০০) পরিস্থিতির সাথে সাথে, কর্ণাটক, কেরালা, দিল্লি, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যেই বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে করোনা। পশ্চিমবঙ্গে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৪৬২ জন। মাত্র এক দিন আগে সংক্রমিত হয়েছিলেন ৪০৪ জন। গত ২ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণার করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সহ মোট ১৮ টি রাজ্যে ‘ডবল মিউটেন্ট’ ভ্যারিয়েন্টের (Double Mutant Variant) নতুন স্ট্রেইন এর হদিস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা INSACOG। যদিও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে, তবে এর উপসর্গ বা ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে এখনও সুনিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশে সফলভাবে চলছে ভ্যাকসিনেশনের কাজ। ইতিমধ্যে, দেশের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করে গত ২২ শে মার্চ জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র ‘কোভিশিল্ড’ (Covishield) ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে প্রথম ডোজ (1st Dose) নেওয়ার ২৮ থেকে ৫৬ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ (2nd Dose) নেওয়া যাবে। আগে এই নিয়ম ছিল, ২৮ থেকে ৪২ দিন। এক্ষেত্রে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানিয়েছেন, ৪২ থেকে ৫৬ দিনের মধ্যে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ আরও বেশি কার্যকরী হতে পারে। তবে, এই নিয়ম কোভাক্সিনের (Covaxin) জন্য নয়।










