দুর্গা পুজোয় কড়াকড়ি, মিটিং মিছিলে ছাড়! তৃণমূল নেত্রী, বিজেপি জেলা সভাপতির পর করোনা ধরল সিপিআইএম জেলা সম্পাদকের ঘাড়

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরে বামফ্রন্টের দশহাজারি মিছিলে রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্রের পাশে জেলা সম্পাদক তরুণ রায় :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সমীরণ ঘোষ, ২২ অক্টোবর: জনগণের স্বার্থে যে মামলা তাকেই বলে জনস্বার্থ মামলা (PIL বা Public Interest Litigation)। মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট সেই মামলাতেই রায় দিয়েছে, প্রতিটি পুজো মণ্ডপ’কেই কনটেইনমেন্ট জোন বা No Entry জোন করতে হবে। গতকাল (২১ অক্টোবর), কলকাতার বেশ কয়েকটি বড় বড় পুজো কমিটি (সুরুচি সংঘ, সমাজসেবী সংঘ, হিন্দুস্থান পার্ক প্রভৃতি)’র তরফে (Forum for Durga Utsab) নির্দেশ পুনর্বিবেচনার মামলা বা Review Petition দাখিল করা হয়েছিল বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে। কিন্তু, বিকেল (২১ অক্টোবর) নাগাদ ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মামলার নির্দেশ বদলানো সম্ভব নয়! তবে, নো-এন্ট্রি জোনের মধ্যে ঢাকি সহ কমিটির অথবা স্থানীয় সদস্যদের প্রবেশের বিষয়ে নিয়ম শিথিল করা হয়েছে সামান্য, পুরোটাই স্বাস্থ্য বিধি ও পুজো মণ্ডপে কনটেইনমেন্ট জোনের নিয়ম বজায় রেখে। করোনা অতিমারী’র পরিস্থিতিতে, বাংলির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবের আবেগে এই আঘাত অনেকের হৃদয়ে বেদনার ক্ষত তৈরি করলেও, বেশিরভাগ জনই তা বৃহত্তর স্বার্থে সমর্থন করেছেন। কিন্তু, এক্ষেত্রে রাজ্যের সচেতন নাগরিকরা ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, করোনা কি কেবল দুর্গোৎসবের ভিড়ে অবস্থান করে, মিটিং-মিছিলের জনজোয়ারে নয়? এর উত্তর কে দেবে? কে করবে জনস্বার্থ মামলা? উত্তর নেই! কোর্টও আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। খুলবে দুর্গোৎসবের পর। কিন্তু, কোর্ট বন্ধ হলেও খোলা আছে জনতার দরবার! জনতা দেখতে পাচ্ছেন, কিভাবে একের পর এক রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা সংক্রমিত হচ্ছেন দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর। সব দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরাই সেই দলে নাম লিখিয়েছেন এবং লেখাচ্ছেন একেক করে। তবে, সেই মিটিং-মিছিল থেকে কতজন সাধারণ মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন, সেই হিসেব কে রাখবে!

thebengalpost.in
সিপিআইএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক তরুণ রায় :

.
.

শুধুমাত্র, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার হিসেব অনুযায়ী, গত ১১ ই অক্টোবর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, তৃণমূলের জেলা কো-অর্ডিনেটর তথা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী ও বিধায়ক শিউলি সাহার। তিনি একের পর এক দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন এবং ১০ অক্টোবর কেশপুরে তৃণমূলের মহামিছিলে হেঁটেছিলেন একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে। ১১ ই অক্টোবর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের সেলিব্রেটি যুব নেতা সোহম চক্রবর্তী’র করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার ৩-৪ দিন আগে তিনি খড়্গপুরে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ধারাবাহিকভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক দলীয় কর্মসূচিতে (যুবশক্তি’র কর্মসূচি) অংশগ্রহণ করেছেন। অপরদিকে, গত ৮ অক্টোবর, বিজেপি যুব মোর্চার সেই বহুল আলোচিত নবান্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করার পর থেকেই অসুস্থতা অনুভব করেছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ তথা বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ১৬ অক্টোবর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তবে, গত ২০ অক্টোবর তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসায়, আপাতত তিনি বাড়িতেই বিশ্রামে আছেন। এদিকে, রাজ্য সভাপতি সুস্থ হতে না হতে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিজেপির সভাপতি শমিত দাস গত ১৯ শে অক্টোবর করোনা সংক্রমিত হন। স্বল্প উপসর্গযুক্ত হওয়ায় তিনি হোম আইশোলেশনে আছেন। বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে তিনিও ধারাবাহিকভাবে যোগ দিয়েছেন। আর এরপরই, ২১ অক্টোবর রাতে করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এল, সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক তরুণ রায় (৭২) ও তাঁর স্ত্রী মহিলা নেত্রী রুবি রায়ের (৬৭)। তিনিও, গত ১৪ অক্টোবর মেদিনীপুর শহরের দশ হাজারি মিছিলে একেবারে সামনের হেঁটেছিলেন, রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের সাথে। মিছিল চলাকালীন বৃষ্টি হওয়ায় সামান্য ভিজেওছিলেন, এরপর থেকেই খানিক অসুস্থতা বোধ করেন সত্তোরোর্ধ্ব এই সিপিআইএম নেতা। গতকালই জেলা সম্পাদক তরুণ রায় ও তাঁর স্ত্রী রুবি রায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করান, কয়েকদিন ধরে জ্বর জ্বর ভাব থাকায়! রাতে (২১ অক্টোবর) দু’জনের রিপোর্টই পজিটিভ আসে। আপাতত তাঁরা হোম আইশোলেশনে থাকলেও, পরিস্থিতি বুঝে করোনা হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে দলীয় সূত্রে।

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে