অভিষেকের আক্রমণের মুখেও অবিচল শুভেন্দু’র ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “শেষ কথা বলবে জনগণ”

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৯ নভেম্বর: মন্ত্রিত্ব ত্যাগের পর প্রথম সভা। যদিও তা ছিল, অবিভক্ত মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রয়াত (১৩ নভেম্বর) রণজিৎ কুমার বয়াল (১৯২৬-২০২০) এর স্মরণসভা। তা সত্ত্বেও, সভা ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে সংবাদমাধ্যম, উৎসাহের অন্ত ছিলনা! যদি কিছু বলেন, শুভেন্দু অধিকারী। না তিনি, নূন্যতম রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো মন্তব্যের আশপাশ দিয়েও গেলেন না! মহিষাদল রাজবাড়ির ছোলাবাড়ি মাঠে আয়োজিত এই স্মরণসভা’র মুখ্য স্মৃতিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাম্রলিপ্ত ‘জনকল্যাণ সমিতি’র সভাপতি শুভেন্দু অধিকারী। স্মৃতিচারণা করলেন। নিজের অপূর্ণ কাজগুলি করার প্রতিশ্রুতিও দিলেন। ‘বাংলার সেবক’ রূপে পাশে থাকার অঙ্গীকারও করলেন, কিন্তু নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত কোনও মন্তব্য করলেন না। তাঁর বক্তব্য শুরুর কয়েক সেকেন্ড আগেই ডায়মণ্ডহারবারের বজবজে বক্তব্য শেষ হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যিনি নাম না করে মন্ত্রিত্ব-ত্যাগকারী, দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরিকারী শুভেন্দু অধিকারী’র প্রতি বিদ্রুপাত্মক বাণ নিক্ষেপ করলেন! দল ত্যাগকারী যে কেউ যে দলের কাছে, তাঁদের কাছে ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘বেইমান’ তা বলতেও দ্বিধাবোধ করেননি! শুভেন্দু অধিকারী’র ‘প্যারাশুট’ থেকে নামার মন্তব্যের ঝোল কোলে টেনে নিয়ে এদিন তিনি নাম না করে সরাসরি জবাব দিয়েছেন এভাবে- “আমরা কেউই প্যারাশুট থেকে নামিনি! যদি নামতাম ৩৫ টি পদের অধিকারী হতাম। দক্ষিণ কলকাতায় ভোটে দাঁড়াতাম! দলের সিদ্ধান্ত মেনে ডায়মণ্ডহারবারে গিয়ে দাঁড়াতাম না!”

thebengalpost.in
মহিষাদলে শুভেন্দু অধিকারী :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

না, প্রতি আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেননি শুভেন্দু অধিকারী। সেই মঞ্চও এদিন ছিলনা। উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের ‘হাততালি’ দিতেও নিষেধ করলেন! তবে, শুভেন্দু অধিকারী নিজে কিছু না বললেও, তাঁর বিশ্বস্ত ‘অনুগামী’রা আজ বলছেন, “কংগ্রেস-ত্যাগ করা, ইউপিএ ছেড়ে এনডিএ বা বিজেপি’র সাথে জোটে যাওয়ার অতীত হয়তো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করতে পারেন নি, কারণ তখন তাঁর রাজনৈতিক হাতে খড়ি হয়নি! তবে, যুব তৃণমূলের পাশাপাশি ‘যুবা’ তৈরি করার কিংবা পর্যবেক্ষকের সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক জুড়ে দেওয়ার ইতিহাস তাঁর মনে রাখা উচিৎ ছিল! মনে রাখা উচিত ছিল, একের পর এক দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার পরেও, ‘অভিমানাহত’ শুভেন্দু অধিকারী’র প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ববি হাকিমদের নোংরা আক্রমণ করার কথা!” আর বিরোধীরা বলছেন, “যে দলটা গড়েই উঠেছে, অন্য একটা দল (পড়ুন, কংগ্রেস) থেকে, তারা আবার বিশ্বাসঘাতক-বেইমান কাদের বলছে!” স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য কোন মন্তব্যই করলেন না। শুধু বক্তব্যের একেবারে শেষ পর্যায়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন, “শেষ কথা বলবে জনগণ!” বুঝিয়ে দিলেন, যে যাই বলুন না কেন, তিনি জনগণের উপরই আস্থাশীল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে