BREAKING : রাজ্যের মাটি স্পর্শ করল অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে টিকাকরন শুরু ডিসেম্বরেই

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ৯ ডিসেম্বর: রাজ্যের মাটি স্পর্শ করেছে করোনা ভ্যাকসিন- “কোভিশিল্ড” (Covishield)। স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে এই ভ্যাকসিন প্রদান বা টিকাকরন শুরু হতে চলেছে, ডিসেম্বর মাসেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ব্রিটেনে গতকাল (৮ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে গণ টিকাকরন। বিশ্বের প্রথম টিকা প্রাপক হিসেবে করোনা ভ্যাকসিন বা করোনা’র টিকা নিয়েছেন, আয়ারল্যান্ডের নবতিপর প্রৌঢ়া মার্গারেট কিন্যান। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই ঘটনাকে “ঐতিহাসিক” বলেছেন। স্বাস্থ্যসচিব ম্যাট হ্যানকক উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলেছেন, “মঙ্গলবার থেকে গণ টিকাকরন শুরু হয়েছে, এ যেন ব্রিটেনের দ্বিতীয় ভি-ডে (ভ্যালেন্টাইন্স ডে)!” এদিকে, ভারতবর্ষ তথা আমাদের রাজ্যেও পৌঁছে গেছে, করোনা ভ্যাকসিন (Covid 19 Vaccine) বা করোনা’র টিকা। ব্রিটেনের ক্ষেত্রে প্রথম ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, ফাইজার ও বায়োএনটেক। ভারতবর্ষের মাটিতে প্রথম দফায় যে ১ কোটি ভ্যাকসিন পৌঁছেছে, তা নিয়ে এসেছে, আদর পুনাওয়ালার সেরাম ইনস্টিটিউট। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনকার তৈরি “কোভিশিল্ড” টিকা দেশে নিয়ে এসেছে তারা।

thebengalpost.in
কোভিশিল্ড (Covishield) এবং আদর পুনাওয়ালা :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গেও পৌঁছে গেছে কোভিশিল্ড। গতকাল (৮ ডিসেম্বর), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব লব আগরওয়ালের সঙ্গে প্রতিটি রাজ্য ও জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের ভার্চুয়াল বৈঠক (ভিডিও কনফারেন্স) সম্পন্ন হয়। সেই বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের GMSD (Government Medical Store Depot) তে ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে করোনার টিকা “কোভিশিল্ড”। গতকালের বৈঠকে (ভিসি’তে) উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল এবং উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী সহ অন্যান্য আধিকারিক বৃন্দ। সেখানেই, রাজ্য স্বাস্থ্যকর্তারা জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের আশ্বস্ত করেন এই বিষয়ে। স্বাস্থ্যকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রতিটি রাজ্যের সাথে সাথে এ রাজ্যেও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে। প্রথম দফায়, স্বাস্থ্য আধিকারিক, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এই টিকা পাবেন। পরের দফায়, পুলিশ প্রশাসন সহ প্রথম সারির অন্যান্য করোনা যোদ্ধারা এই টিকা পাবেন। সেক্ষেত্রে, দেশে আরও ২ কোটি করোনা টিকা পৌঁছবে। এর পরের দফায়, ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষ টিকা পাবেন। ততদিনে অবশ্য, শুধু সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড নয়, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন (Covaxin) সহ অন্য কোম্পানির টিকাগুলিও পরীক্ষিত ও প্রদানের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে, সারা দেশে এবং এই রাজ্যে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় ও শেষ দফার ট্রায়াল চলছে। রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ ববি হাকিম সহ অনেকেই প্রথম ডোজের টিকা নিয়ে সুস্থ আছেন। ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নেবেন তাঁরা। ভারতের ক্ষেত্রে, ফাইজার (Pfizer) ছাড়া সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (SII) এবং ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech) ইতিমধ্যে করোনা ভ্যাকসিন বাজারজাত করার জন্য ডিসিজিআই (Drug Controller General of India) এর কাছে আবেদনও জানিয়েছে। সেরামের ভারতীয় সিইও গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, “ভারতীয় খোলা বাজারে কোভিড টিকার প্রতি ডোজের দাম পড়তে পারে এক হাজার টাকা। তবে কেন্দ্রীয় সরকার প্রচুর বরাত দিলে, খুবই অল্প দামে তা মিলতে পারে।” সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২৫০ টাকা প্রতি ডোজ দরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে করোনা টিকা বিক্রি করেছে সেরাম। গতকালের বৈঠক থেকে জানা গেছে, সেই টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক।

thebengalpost.in
কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন :

বিজ্ঞাপন

এদিকে, গতকালের বৈঠক থেকে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা অনুমান করেছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই হয়তো স্বাস্থ্যযোদ্ধারা “কোভিশিল্ড” টিকার প্রথম ডোজ নিতে পারবেন। এই টিকার প্রথম ডোজ ৭০ শতাংশ প্রতিরোধক্ষম এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর তা ৯০ শতাংশ প্রতিরোধক্ষম বলে জানা গেছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) এবং ন্যাশনাল আর্বান হেলথ মিশনের নোডাল অফিসার ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “দুটি ডোজের মধ্যে ২৮ দিনের ব্যবধান থাকবে। কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ খুব সম্ভবত এক-দু’সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োগ করা হবে। প্রথম দফায় স্বাস্থ্যকর্মীরা, দ্বিতীয় দফায় প্রথম সারির অন্যান্য করোনা যোদ্ধা তথা পুলিশ, আর্মি সহ ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কাররা এবং তার পরের দফায় সাধারণ মানুষ টিকা পাবেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে, GMSD কলকাতায় কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি। প্রথম দফায় সারা দেশে ১ কোটি, দ্বিতীয় দফায় ২ কোটি এবং তারপর পুরোপুরি নির্বাচনি পদ্ধতিতে বুথ ধরে ধরে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলেও জানতে পেরেছি। সেক্ষেত্রে, নির্বাচনের চারজন পোলিং অফিসারের মতোই এখানে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। সমস্ত কিছু পরীক্ষা করা হবে, টিকা দেওয়া হবে এবং তারপর আধ ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রেখে বাড়ি পাঠানো হবে বলেও জানতে পেরেছি এই বৈঠক থেকে।”

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে