“বাংলা ও বাঙালিয়ানায় আক্রমণ শুরু ১৯১১ সাল থেকে”, ‘ব্রাত্য-বাঙালি’ অস্ত্রেই বিজেপি’কে আক্রমণ তৃণমূল কংগ্রেসের

.

সমীরণ ঘোষ, কলকাতা, ২১ নভেম্বর: “ব্রিটিশ শাসনকাল থেকেই বাংলা ও বাঙালিয়ানার উপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। ১৯১১ সালে ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে এর সূত্রপাত হয়েছিল। তারপর, ১৯৩৯ সাল। ত্রিপুরি কংগ্রেসে জয়লাভ করেও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’কে অপমানিত ও পদত্যাগ করতে হয়। ফলস্বরূপ তিনি নতুন দল ফরওয়ার্ড ব্লক তৈরি করেন। একইরকমভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নব্বইয়ের দশকে হেনস্থা হতে হয়। তিনিও নতুন দল তৈরি করতে বাধ্য হন।” এভাবেই শুক্রবারের (২০ নভেম্বর) সাংবাদিক বৈঠকে “ব্রাত্য বাঙালি” অস্ত্র প্রয়োগ করে, আপামর বাঙালির সেন্টিমেন্ট বা দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চাইলেন, রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র তথা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতিদিন সাংবাদিক সম্মেলন করা হচ্ছে, তার ভিত্তিতেই শুক্রবার দায়িত্ব পড়েছিল স্বনামধন্য নাট্যশিল্পী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু’র উপর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও ব্রাত্য বসু সহ একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-নেত্রীরা তৃণমূল নেত্রী’র আন্দোলনের সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আন্দোলনের তুলনা করেছেন। এদিন উপস্থিত সাংবাদিকরা এ নিয়ে তাঁর দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলে তিনি বলেন, “নেতাজির সাথে মমতার তুলনা করিনি। তবে যেভাবে তিনি আন্দোলন করে, ফরওয়ার্ড ব্লক দল এবং পরবর্তী সময়ে আজাদ হিন্দ বাহিনী পরিচালনা করেছেন, ঠিক সেভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর আজাদ হিন্দ বাহিনী, এই তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালনা করছেন। সেটা ছিল স্বাধীনতা সংগ্রাম, বৃহত্তর প্রসার বা ব্যাপ্তি, আর এটা রাজনৈতিক আন্দোলন, তুলনামূলক সংকীর্ণ পরিসর। আমি বলতে চেয়েছি সেদিনও, বাঙ্গালীদের লড়াই করতে হয়েছে শুধু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নয়, গুজরাটি মারাঠি দের সাথে। আর এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা বাঙালীদের লড়াই করতে হচ্ছে, বহিরাগত গুজরাটি মারাঠিদের বিরুদ্ধেই!” আজ এভাবেই “বাঙালিয়ানা” কে কাজে লাগিয়ে, বিজেপি ও আর এস এস কেই আক্রমণ করতে চেয়েছেন ব্রাত্য বসু।

thebengalpost.in
সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বসু :

.
.

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে, ‘অবাঙালি ইস্যু’তে রীতিমতো আক্রমণাত্মক ছিলেন ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, “বিজেপির উত্থান হয়েছে আর এস এস থেকে। সেই আর এস এসের জন্ম স্বাধীনতার আগে, ১৯২৫ সালে। এত বছর হয়ে গেল, কখনও দেখেছেন কোনও বাঙালি ব্রাহ্মণ কে আর এস এস প্রধান করা হয়েছে? কেন এত এত বাঙালি তো আর এস এস করে সেই জন্মলগ্ন থেকে! সবসময়ই পুনে, নাগপুর, আহমেদাবাদের ব্রাহ্মণদেরই প্রধান করা হয়। আর পশ্চিমবঙ্গেও অবাঙালি নেতাদের পাঠানো হয়েছে! বাঙালিরা কেন মেনে নেবে?” উপস্থিত সাংবাদিকরা পিকে’র কথা তুললে, ব্রাত্য বসু জবাব দেন, “আপনারাই বলুন না প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের কোন কমিটিতে আছেন? রাজ, জেলা, ব্লক কোন‌ কমিটি? এসব বিজেপির অপপ্রচার।” মোট কথা এটুকু ভালোভাবেই বোঝা গেল, যতদিন না বিজেপি তাদের বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী’র নাম ঘোষণা করছে, ততদিন ‘অবাঙালি ইস্যু’ তৃণমূলের অন্যতম রাজনৈতিক অস্ত্র হতে চলেছে!

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে