অবিভক্ত মেদিনীপুরের শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রকে ‘আলোকিত’ করে বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত জঙ্গলমহলের শিক্ষক

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ নভেম্বর: সমাজকে আলোকিত করার পুরস্কার পেলেন জঙ্গলমহলের শিক্ষক সুব্রত মহাপাত্র। অবিভক্ত মেদিনীপুর’কে করলেন গর্বিত। ভারতরত্ন ডঃ এ.পি.জে.আব্দুল কালাম এর নামাঙ্কিত সম্মাননা পেয়ে “জঙ্গলমহল” কে করলেন সম্মানিত। শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য, ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপু্র ২ নম্বর ব্লকের বেলিয়াবেড়া কৃষ্ণ চন্দ্র স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত মহাপাত্রকে এই বিরল সম্মাননা প্রদান করেছে, “ইন্ডিয়ান সলিডারিটি কাউন্সিল” নিউ দিল্লি। প্রসঙ্গত, এই কাউন্সিল শিক্ষা ক্ষেত্রে ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে উৎকর্ষতার” জন্য এই সম্মাননা প্রদান করে থাকে। সম্প্রতি, জঙ্গলমহলের শিক্ষক সুব্রত মহাপাত্র এই বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন এবং জঙ্গলমহল তথা অবিভক্ত মেদিনীপুর’বাসীকে গর্বিত করেছেন।

thebengalpost.in
অবিভক্ত মেদিনীপুরের শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রকে ‘আলোকিত’ করে বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত জঙ্গলমহলের শিক্ষক :

.
.

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত ২৫ শে অক্টোবর, ইন্ডিয়ান সলিডারিটি কাউন্সিল থেকে ডাকযোগে আসা চিঠিতে জানা যায়, সুব্রত বাবু এই সম্মাননা পেতে চলেছেন। এরপর, দিল্লি থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে “ভারতরত্ন কালামের” নামাঙ্কিত এই সম্মাননা প্রদান করা হয় তাঁকে। সম্মাননা হিসেবে একটি মানপত্র ও একটি মেমেন্টো প্রদান করা হয় এবং তা ডাকযোগে পাঠানো হয়। কোভিড পরিস্থিতির জন্য ভার্চুয়াল সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি ক্যুরিয়ার মাধ্যমে মানপত্র ও মেমেন্টো লাভ করেছেন শিক্ষক সুব্রত মহাপাত্র।

thebengalpost.in
অবিভক্ত মেদিনীপুরের শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রকে ‘আলোকিত’ করে বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত জঙ্গলমহলের শিক্ষক :

.

জানা যায়, শিক্ষাক্ষেত্রে মূলত তিনটি অবদানের জন্য সুব্রত বাবু’কে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। প্রথমত, বাল্য বিবাহ রোধে পঞ্চম ও একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সময় মেয়েদের অভিবাবকদের কাছ থেকে এই মর্মে মুচলেকা বা অঙ্গীকার পত্র নেওয়া যে- “১৮ বছরের আগে আমার কন্যার বিবাহ দেবো না এবং তাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ প্রদান করব”। -এই ছিল মুচলেকার সারমর্ম। ঝাড়গ্রাম জেলায় তিনি সর্বপ্রথম বাল্যবিবাহ রোধে এই ব্যবস্থা নিয়েছেন, যা সরকারী স্তরে বহুল প্রশংসিত হয়েছে এবং ‘রোল মডেল’ হিসেবে এই ব্যবস্থাকে জেলার সমস্ত স্কুলে চালু করার জন্য জেলা শিক্ষা দফতর ভাবনা চিন্তা করেছে। দ্বিতীয়ত, গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর আদিবাসী অধ্যুষিত ব্লকের বেলিয়াবেড়া’তে সরকারী ডিগ্রি কলেজ স্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ ভূমিকা। তৃতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গে সর্বপ্রথম “কন্যাশ্রী লাইব্রেরী ও রিডিং রুম” স্থাপনে অন্যতম সহযোগী উদ্যোক্তা হিসেবে অবদান রাখা। এছাড়াও, লকডাউনের সময় মেদিনীপুর থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বাইক চালিয়ে, জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে নিজের বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় পাঠদান সহ, শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে