দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মুর্শিদাবাদ ও কলকাতা, ১৯ মার্চ: পাখির চোখ পশ্চিমবঙ্গের ‘সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক’। পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী আগেই ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) তৈরি করে নির্বাচনী
যুদ্ধে নেমে পড়েছেন, বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট (সংযুক্ত মোর্চা) গড়ে। রাজ্যের প্রায় ৩০ টি আসনে তারা লড়াই করতে চলেছে। ইতিমধ্যে, ২০ টি আসনে তারা প্রার্থীও ঘোষণা করে দিয়েছে। তবে, শুধু সংখ্যালঘু প্রার্থী নয়, ঘোষণা
অনুযায়ী এবং সংরক্ষণের নিয়ম অনুযায়ী এই আসনগুলিতে তারা তফশিলী, আদিবাসী, দলিত থেকে শুরু করে সাধারণ জাতিভুক্ত (এমনকি ব্রাহ্মণ) প্রার্থীও দিয়েছে। তবে, বাকি আসনে তারা বাম-কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। সেক্ষেত্রে,
সংখ্যালঘু ভোট কিছুটা হলেও বাড়বে বাম-কংগ্রেসের। অন্যদিকে, বিহার বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচটি আসনের জয়ের পর, বাংলাতেও নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা করেছিলেন, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি (Asaduddin Owaisi)। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী,
বাংলায় তারা ১৩ টি আসনে প্রার্থী দিতে চলেছে। সবকটিই মুর্শিদাবাদ জেলায় বলে জানা গেছে।

Whatsapp Group এ
প্রসঙ্গত, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি (Asaduddin Owaisi)’র ঘোষণার পর থেকেই তাঁর সংগঠন কাজ শুরু করে দিয়েছিল। জানুয়ারি মাসে ফুরফুরা শরীফে এসে আব্বাস সিদ্দিকের সঙ্গে বৈঠকও করেন ওয়াইসি। জোট করে লড়াই করার কথা থাকলেও, পরবর্তীকালে
আব্বাস সিদ্দিকী বাম-কংগ্রেসের জোট সামিল হয়। আর এতেই ধাক্কা খায় মিম। শেষ পর্যন্ত, মুর্শিদাবাদে ২২ টি আসনে প্রথমদিকে প্রার্থী দেওয়ার কথা থাকলেও সেই জায়গা থেকে সরে আসে মিম। তাঁরা চাইছে, যে সমস্ত ব্লকে তাঁদের সংগঠন
রয়েছে, প্রতিটি বুথে এজেন্ট দিতে পারবে সেই সমস্ত জায়গাতেই তাঁরা প্রার্থী দেবে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত ব্লকে সংখ্যালঘু মানুষের আধিক্য রয়েছে, সেই সমস্ত ব্লকেই প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিম (AIMIM)।
সেক্ষেত্রে ফারাক্কা, সুতি, জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘী, জলঙ্গি ডোমকল এর মতো ব্লককে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, রাজ্যের বেশিরভাগ সংখ্যালঘু ভোট এতদিন শাসকদলের দখলেই ছিল। তবে, মালদা, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি
জেলায় এই ভোটের একটা বড় অংশ কংগ্রেসের সঙ্গে আছে। আর সেক্ষেত্রে সারা রাজ্যেই এবার সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিভাজন, পরোক্ষে বিজেপি’কে কিছুটা হলেও সুবিধা করে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক
মহলের অভিমত।









