শালবনীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত গোয়ালতোড়ের মাতৃযানের চালক, আশঙ্কাজনক আরো একজন, দুর্ঘটনা খড়্গপুর শহরেও

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ নভেম্বর : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকে ফের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন তরতাজা যুবক। গোয়ালতোড়ের কেওয়াকোলের বাসিন্দা তপন আশ (৩৭), নিজেদের ‘মাতৃযান’ নিজেই চালাতেন। গোয়ালতোড়ের কেওয়াকোল গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে ওই মাতৃযান নিয়েই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ‘মাতৃমা’তে এক প্রসূতি’কে ছেড়ে দিয়ে, রাস্তায় ৪ জন প্যাসেঞ্জার তুলে নিয়ে পিড়াকাটা-গোয়ালতোড় রাজ্য সড়ক দিয়ে গোয়ালতোড়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। রঞ্জার জঙ্গল পেরিয়ে কুঁড়াজুড়ির কালী মন্দিরের কাছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের একটি শালগাছে সজোরে ধাক্কা মারলে, মারুতি ওমনি গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে একেবারে ভাঙা খেলনা গাড়ির মতো হয়ে যায়! ঘটনাস্থলেই চালক তপন (ভোম্বল) এর মৃত্যু হয়! গাড়ির গতিবেগ এতোই বেশি ছিল, বিশাল ওই শাল গাছ মাটি থেকে উপড়ে পড়ে যায়। পিড়াকাটা পুলিশ পোস্টের বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, স্থানীয়দের সহায়তায়, গাড়ির মধ্যেই মৃত ওই চালককে বের করার সাথে সাথে এবং আহত ওই চার পেসেঞ্জার কে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এর মধ্যে বাচ্চু লোহার (৪২) নামে এক ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাঁকে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

thebengalpost.in
মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শালবনীতে :

.
.

বিকেল ৪ টা নাগাদ ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়! গোয়ালতোড়ের যুবক তপন আশ (ভোম্বল) নিজেদের মাতৃযান নিজেই চালাতেন। গাড়িটি গোয়ালতোড়ের কেওয়াকোল গ্রামীণ হাসপাতালের অধীনেই ছিল। আজও (৩ নভেম্বর) এক প্রসূতি’কে নিয়েই গোয়ালতোড় থেকে মেদিনীপুরে গিয়েছিল বলে জানা গেল, তপনের সহকর্মীদের কাছ থেকে। ফেরার পথেই ৪ জন প্যাসেঞ্জারকে তুলেছিল সে। এদের মধ্যে এক মহিলা এবং গোয়ালতোড়ের এক বিএসএনএল কর্মী ছিলেন। ওই দু’জনের চোটই মারাত্মক। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ওই মহিলার হাত ভেঙেছে বলে জানা যায়। কোমরেও চোট পেয়েছেন তিনি। অপরজন, বিএসএনএল কর্মী বাচ্চু লোহারের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। তিনি মাথায় ও বুকে আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। অন্য দুই যাত্রীর আঘাত গুরুতর নয়, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মৃত তপনের বাড়িতে বাবা ও মা আছেন। আছে স্ত্রী ও ১২ বছরের এক কন্যা। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ তাঁরা! শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র এলাকাতেই। পিড়াকাটা পুলিশ পোস্টের তরফে জানা গেছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, গাড়ির অতিরিক্ত গতিবেগের জন্যই এই দুর্ঘটনা! অনেকে আবার চালকের (তপন আশের) নেশাগ্রস্ত থাকার অভিযোগ করেছেন। যদিও, কেওয়াকোল গ্রামীণ হাসপাতালের অপর এক মাতৃযানের চালক তথা তপনের সহকর্মী ও বন্ধু ইন্দ্রজিৎ মাহাত জানিয়েছেন, “আমাদের ধারনা ওই সময় অর্থাৎ দুপুরে ও কোন মাদক দ্রব্য সেবন করেনি। ওই এলাকাটি এমনিতেই দুর্ঘটনাপ্রবণ। তার সঙ্গে অতিরিক্ত গতিবেগের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই দুর্ঘটনা!” প্রসঙ্গত, লক্ষ্মী পুজোর দিন এবং তার পরদিনও (৩১ অক্টোবর) দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শালবনী ব্লকের আশনাশুলির এক প্রৌঢ় এবং শালবনী করোনা হাসপাতালের এক করোনা যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছিল।

thebengalpost.in
মৃত তপন আশ (৩৫) :

.

এদিকে, খড়্গপুর শহরের ইন্দা কমলা কেবিন এলাকায় রাজ্য সড়কের উপর আজ খড়গপুর থেকে মেদিনীপুর যাওয়ার পথে, জেনারেটর বোঝাই করা একটি অটো হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে। আহত হয় অটোচালক। রাজ্য সড়কে কিছুক্ষণের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজনের তৎপরতায় মাঝ রাস্তা থেকে অটো সরানো হয় এবং আহত অটোচালককে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

thebengalpost.in
খড়্গপুরে দুর্ঘটনা :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে