শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে এক শিক্ষকের মানবিক মুখ দেখল জঙ্গলমহল

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ৪ সেপ্টেম্বর : করোনা আবহের মাঝেই জঙ্গলমহলের এক শিক্ষকের মানবিক মুখ দেখলো মানুষ। শিক্ষক দিবসের ঠিক প্রাক্কালেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে ঝাড়গ্রাম রামকৃষ্ণ মিশনকে কুড়ি হাজার টাকা দিলেন গোপীবল্লভপুর এক নম্বর ব্লকের অন্তর্গত নয়াবসান জনকল্যান বিদ্যাপীঠের সংস্কৃতের শিক্ষক হেরম্বনাথ চক্রবর্তী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে রামকৃষ্ণ মিশনের ঝাড়গ্রাম শাখার সম্পাদক মহারাজের হাতে কুড়ি হাজার টাকার চেক তুলে দেন তিনি। শিক্ষার উন্নতিতে শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে এহেন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন সকলেই। এই প্রসঙ্গে সম্পাদক মহারাজ জানান যে, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহনের জন্য হেরম্ববাবুর মতো একজন শিক্ষকের এইভাবে এগিয়ে আসা এক দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা।” ২০০১ সালের এই ৫ ই সেপ্টেম্বর দিনটিতেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নতুন দিল্লির ‘বিজ্ঞান ভবন’এ তাঁর বাবা তারানন্দ চক্রবর্তী পেয়েছিলেন ‘জাতীয় শিক্ষক’এর বিরল সম্মান। বাবার পুরস্কার পাওয়াকে স্মরণে রাখতে গরিব ছাত্র ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন ছেলে।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
হেরম্বনাথ চক্রবর্তী :

[ আরও পড়ুন -   জঙ্গলমহলে তৃণমূলের ঘর ভাঙছে বিজেপি, দুর্নীতির দায় চাপিয়ে কয়েকশো কর্মী সমর্থক বিজেপি'র পতাকা তুলে নিলেন ]

প্রসঙ্গত উল্ল্যেখ্য যে, করোনা মহামারী এবং আমফান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যখন জঙ্গলমহলের জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো, সেই সময় এই জোড়া বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত মানুষের সেবা কার্যের জন্য ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের ঝাড়গ্রাম জেলার পুখুরিয়া শাখার অধ্যক্ষ মহারাজ এর হাতেও কুড়ি হাজার টাকার চেক তুলে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বাবাও দিয়েছিলেন পঞ্চাশ হাজার টাকা। এই প্রসঙ্গে হেরম্ববাবু জানান যে, বাঁকুড়া বিশ্বপ্রেমিক সঙ্ঘের অধ্যক্ষ স্বামী প্রশান্তানন্দ মহারাজজীর অনুপ্রেরনাতেই এই রকম সেবামূলক কার্য তিনি দীর্ঘ দিন ধরে করে আসছেন। দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য পাঠ্যপুস্তক বিতরন এবং আর্থিক সাহায্য প্রদান, তাঁর এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের সম্বর্ধনা দেওয়া থেকে শুরু করে বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজ, বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজ, বাঁকুড়া সারদামনি মহিলা মহাবিদ্যালয় প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির গ্রন্থাগারগুলিতে সংস্কৃত অনার্স ও পাসকোর্সের ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্য সহায়ক পুস্তক প্রদান প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার জনহিতকর কার্যের সাথে তিনি যুক্ত। আগামী দিনে এই ভাবেই এগিয়ে যেতে চান বলে জানান তিনি। শিক্ষা দানের পাশাপাশি জনহিতকর সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যেভাবে তিনি এগিয়ে চলেছেন, তাতে এলাকার ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক থেকে শুরু করে প্রতিটি সমাজ সচেতন নাগরিকই তাঁদের “প্ৰিয় স্যার” এর জন্য গর্ব অনুভব করেন। এবারের শিক্ষক দিবস যেন অন্য ধারায় পালিত হতে চলেছে এক অনন্য শিক্ষকের স্নেহের ছোঁয়ায়!

[ আরও পড়ুন -   বদলা সেই অনন্তনাগে! হিজবুল মুজাহিদিন কম্যান্ডার সহ ৩ জঙ্গিকে নিকেশ করল সেনাবাহিনী ]