‘প্রমীলা’ রাই প্রথম! দুই কোভিড বিজয়িনীকে দিয়েই পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু হল “প্লজমা দান” প্রক্রিয়া

two women of paschim medinipur create a new history

.

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৮ সেপ্টেম্বর : “আমি নারী….আমি মহীয়সী”… বিশ্বকবি’র এই অমোঘ বাণী’কে আবারো সার্থক প্রমাণিত করলেন, রাজ্য এবং জেলার “কোভিড বিজয়িনী”রা। কোভিড ১৯ চিকিৎসায় এক ফলপ্রসূ পদ্ধতি হল ‘প্লাজমা থেরাপি’। সারা বিশ্বে এবং আমাদের দেশে আইসিএমআর স্বীকৃত এই চিকিৎসা পদ্ধতি’র শুভ সূচনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। মে মাসে সারা পূর্ব ভারতের মধ্যে প্রথম কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রথম প্লাজমা দানকারী (Plasma Donor) হিসেবে ইতিহাসে প্রবেশ করেছেন, উঃ ২৪ পরগণার হাবড়ার তরুণী মনামী বিশ্বাস (২৩)। রাজ্যের তৃতীয় করোনা আক্রান্ত (মার্চ মাসে আক্রান্ত) এবং প্রথম করোনা জয়ী এই তরুণী মে মাসের শেষ সপ্তাহে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ‘প্লাজমা’ দান করেন। রাজ্যের প্রথম প্লাজমা দানকারী যেমন এক প্রমীলা (মনামী বিশ্বাস), ঠিক তেমনই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথম প্লাজমা দানকারী হিসেবে জেলার ইতিহাসে প্রবেশ করলেন, বেলদার (নন্দ মার্কেট এলাকা) কোভিড বিজয়িনী মঞ্জু মোহান্তি (৩৯) এবং তাঁর অষ্টাদশী কন্যা মৌপিয়া মোহান্তি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে, আজ (মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর) মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে, তাঁরা প্লাজমা দান করলেন।

thebengalpost.in
‘প্রমীলা’ রাই প্রথম! দুই কোভিড বিজয়িনীকে দিয়েই পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু হল “প্লজমা দান” প্রক্রিয়া :

.

গত ২৪ আগস্টের বিজ্ঞপ্তি’তে রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ছাড়াও যে ১৯ টি মেডিক্যাল কলেজের ‘ব্লাড ব্যাংক’ কে প্লাজমা ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম হল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক। এই সিদ্ধান্ত’কে স্বাগত জানিয়েছিলেন, জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল ও উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) জেলা টাস্ক ফোর্সের মিটিংয়েও এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছিলেন জেলাশাসক। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানিয়েছিলেন, “মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ প্রস্তুত আছে প্লাজমা গ্রহণের জন্য।” তিনি এও জানিয়েছিলেন, রক্তের উপাদান পৃথকীকরণের ব্যবস্থা (Component Seperation) সহ অন্যান্য পরিকাঠামো মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে আছে, তাই প্লাজমা গ্রহণ ও সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না; ‘প্লাজমা থেরাপি’র সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কয়েকটি পরিকাঠামোগত বিষয়ও গড়ে তোলা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য আধিকারিকেরাও আহ্বান জানিয়েছিলেন কোভিড জয়ীদের এগিয়ে আসার জন্য। আজ দুই প্রমীলা বাহিনী’র প্লাজমা দানের খবরে খুশি হয়ে জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “ওনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এভাবেই অন্যান্য কোভিড জয়ীরাও যাতে এগিয়ে আসেন, সেই আবেদন রাখবো। ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে বয়স যাঁদের, তাঁরা করোনা মুক্ত হওয়ার ২৮ দিন পর প্লাজমা দান করতে পারেন। আসলে, এটা সাধারণ রক্তদানের মতোই প্রক্রিয়া। তারপর, ওই রক্ত থেকে প্লাজমা বের করে নেওয়া হবে কম্পোনেন্ট সেপারেশনের মাধ্যমে। সেই প্লাজমা’তে অ্যান্টিবডি উপস্থিত আছে কিনা তা দেখে নেওয়ার পর, উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তের শরীরে তা প্রবেশ করানো হবে। এভাবেই রক্তদান বা প্লাজমা দানের মধ্য দিয়ে, কোভিড যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাবো কোভিড জয়ীদের কাছে।”

thebengalpost.in
‘প্রমীলা’ রাই প্রথম! দুই কোভিড বিজয়িনীকে দিয়েই পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু হল “প্লজমা দান” প্রক্রিয়া :

.

এই মহান কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত মঞ্জু দেবী ও তাঁর কনিষ্ঠা কন্যা মৌপিয়া। মা ও মেয়ের এই সাহসিকতা ও মহানুভবতায় উদ্বুদ্ধ হয়েছেন আপামর জেলাবাসীও। তবে, অবাক হননি বেলদা’বাসী! বিজেপি’র মহিলা মোর্চার ডাকাবুকো নেত্রী মঞ্জু দেবী বরাবরই তাঁর কাজে সাহসিকতার নজির রাখেন। দুই কন্যাও তাই। গত ১৫ জুলাই ও ১৮ জুলাই মা ও মেয়ে (মৌপিয়া) যথাক্রমে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। দু’জনই দিন দশেকের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। গত ২৭ জুলাই মেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলে, মা ও মেয়ের সেই ‘খুশির নাচ’ ভাইরাল হয়েছিল নিমেষের মধ্যে। প্রতিবেশীরা বলছেন, তাঁরা এমনই, সাহসী, খোলামেলা ও পরোপকারী। আর, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্জু দেবী বললেন, “গত শনিবার জেলা প্রশাসনের তরফে ফোনে মেসেজ পাই। প্লাজমা দান করার বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। লকডাউন না থাকলে সোমবারই আসতাম। এই করোনা মহামারী’র চিকিৎসায় এভাবে যদি আমরা সহযোগিতা করতে পারি, এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে! ৩৫০ এম এল করে রক্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা দু’জনই সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। বাকিদেরও আহ্বান জানাবো এই মহান কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য।”
***আরো পড়ুন : বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসে মেদিনীপুরে পুলিশের মহানুভবতা….

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্লাজমা দান প্রিয়াঙ্কা মোহান্তি’র :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে