কোভিড জয়ীদের ‘প্লাজমা’ নিতে প্রস্তুত মেদিনীপুর মেডিক্যাল, ৯৮ শতাংশ করোনা আক্রান্ত’কে নিয়ে ভয় নেই, মাত্র ২ শতাংশের ক্ষেত্রে হঠাৎ অবনতি

midnapore medical college and hospital is ready to take plasma from covid warrior

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে প্লাজমা ব্যাংক শুরু হতে চলেছে :
.

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ সেপ্টেম্বর :কোভিড (১৯) চিকিৎসায় এই মুহূর্তে অত্যন্ত কার্যকরী হিসেবে ধরা হচ্ছে, ‘প্লাজমা থেরাপি’ পদ্ধতিকে। এজন্য, গত ২৪ আগস্টের বিজ্ঞপ্তি’তে, রাজ্যের ২০ টি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’কে চিহ্নিত করা হয়েছে, “প্লাজমা ব্যাঙ্ক” হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। কোভিড জয়ী’রা আক্রান্ত হওয়ার ২৮ দিন পর তাঁদের প্লাজমা বা রক্তরস দান করতে পারেন। এরপর, পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হবে, তাঁর প্লাজমা’তে রোগ প্রতিরোধকারী সেই ‘অ্যান্টিবডি’ উপস্থিত আছে কিনা। যদি ২৮ দিন পরেও অ্যান্টিবডি’র অস্তিত্ব (অনেকের ক্ষেত্রে ২৮ দিনের মধ্যে, তৈরি হওয়া ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে সেরো-সার্ভিল্যান্সে প্রমাণিত) থাকে, তবেই সেই ‘প্লাজমা’ কোভিড আক্রান্তের শরীরে প্রবেশ করানো হবে বিশেষ পদ্ধতিতে। প্লাজমা দানের ক্ষেত্রে, কোভিড জয়ী’র বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেসার সহ বড় কোনো রোগ থাকা চলবেনা। এছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয় দেখে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে’র সঙ্গেই গড়ে উঠতে চলেছে এই প্লাজমা ব্যাংক। এই প্রসঙ্গে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানিয়েছেন, “জেলা প্রশাসন কোভিড জয়ীদের প্লাজমা দানের জন্য আবেদন ও উৎসাহিত করার বিষয়টি দেখছেন। উপযুক্ত প্রার্থী এলে আমরা প্লাজমা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জেলার কোভিড টাস্ক ফোর্সের আলোচনায় জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছিলেন। জেলার সেরো-সার্ভিল্যান্স সমীক্ষার অন্যতম প্রধান সমীক্ষক তথা জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গীও এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “কোভিডের ভ্যাকসিন বা টীকা আসার আগে এই প্লাজমা থেরাপি অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে, উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তদের জন্য। একজন কোভিড জয়ী ব্যক্তি যদি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান এবং তাঁর বয়স যদি ১৮ থেকে ৫৫ এর মধ্যে হয় বা অন্যান্য শর্তগুলি পূরণ করেন, তবে তিনি প্লাজমা দিতে পারেন। তবে, প্লাজমাদানকারী’র শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি আছে কিনা তা দেখে নেওয়া’র পরই আক্রান্তের শরীরে প্রবেশ করানো হবে। আমরা সেরো-সার্ভিল্যান্স করতে গিয়ে দেখেছি, ২৮ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে অনেক কোভিড জয়ী’র শরীরের অ্যান্টিবডি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই, ন্যূনতম ২৮ দিন পর দেখে নেওয়া হবে, কোভিড জয়ীর শরীরে অ্যান্টিবডি লেভেল ঠিকঠাক আছে কিনা। এই মুহূর্ত থেকে আমরা কোভিড জয়ীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনাদের সহযোগিতা ও সদিচ্ছা’ই একজন আক্রান্ত’কে সুস্থ করে তুলতে পারে।”

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে প্লাজমা ব্যাংক শুরু হতে চলেছে :

.

এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একমাত্র লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল শালবনী’তে গত কয়েকদিনে পরপর বেশ কয়েকটি মৃত্যু নিয়ে, ওয়াকিবহাল মহলের পক্ষ থেকে ওই হাসপাতালের পরিকাঠামোগত কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই বিষয়েও জেলা টাস্ক ফোর্সের মিটিংয়ে এবং গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজ্য স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায় প্রশাসন সূত্রে। সেই আলোচনাতে, শালবনী করোনা হাসপাতালের পরিকাঠামোগত কোনো ত্রুটি আছে কিনা দেখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। যদিও জেলা প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিকাঠামোগত বা চিকিৎসা পরিষেবার বিষয়ে কোনো ত্রুটি নেই। তা সত্বেও, পরিষেবা আরো উন্নত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “আমাদের দিক থেকে সামান্যতম ত্রুটিও নেই। যথেষ্ট সাফল্যের সাথে শালবনী পরিষেবা দিয়ে এসেছে প্রথম থেকে। অক্সিজেন সাপোর্ট থেকে শুরু করে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা সবকিছুই ঠিকঠাক আছে। দু’ একটি ক্ষেত্রে আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার অবনতি এতো দ্রুততার সাথে হয়েছে, কোনো সুযোগই পাওয়া যায়নি। প্রতিমুহূর্তে এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এ নিয়ে জেলাবাসীকে অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানাবো।” উল্লেখ্য যে, জেলায় এখনো পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল ৫০৪৬ এবং মৃত্যু ৮২। শতাংশের হারে তা ১.৬২ (%)। একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে, জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশের ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে সারা বিশ্বে। তার মধ্যে মারা যাচ্ছেন ১ থেকে ২ শতাংশ! বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা কোভিডের যে সমস্ত ‘অদ্ভুত’ (Bizarre) উপসর্গগুলি খুঁজে পেয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হল, হঠাৎ করে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে রক্ত সঞ্চালন সম্পূর্ণ বন্ধ করে যাওয়া এবং ফুসফুসে রক্ত ও জল জমে গিয়ে নিমেষের মধ্যে শারীরিক অবস্থার ভয়ঙ্কর অবনতি! সেক্ষেত্রে, প্রেসার, সুগার, ফুসফুস ও কিডনি’র সমস্যা থাকলে বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, অবস্থা হঠাৎ করেই আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে, গবেষণাও সেকথা বলছে। তবে, ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি নেই শালবনীতে, একথা দায়িত্বের সঙ্গে বলতে পারি।”

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতাল :

.

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে